নিহত শাওনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

নিহত শাওনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা যায়, নিহত শাওন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাবার নাম শাহেদ আলী। শাওন ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ডোরাকাটা সাদা রঙের টি-শার্ট ও কালো জিনস পরিহিত শাওন বিএনপির মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন।

এদিকে নিহত শাওনের পরিচয় বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, ফতুল্লার এনায়েতনগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা শাওন পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। 

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ এসে বাধা দেয়। পরে সেখান থেকে চলে আসার সময়ে শহরের ২নং রেল গেটের কাছে এলে পুলিশ ফের বাধা দেয় ও লাঠিচার্জ করে। পরে তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।  এ সময় আমিসহ দলের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এই সংঘর্ষে যুবদলের শাওন নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও আরও একজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি, তবে তার নাম পাইনি। আরও অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালি করার জন্য পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নাম্বার রেলগেইট এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। র‍্যালিতে অংশ নিতে জেলা যুবদলের নেতা সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জড়ো হয়। ওই মিছিলের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন যুবদলকর্মী রাজা আহমেদ শাওন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমীর খসরু সাংবাদিকদের জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। তবে বিএনপির কতজন আহত বা নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত না। একজন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি, তদন্ত করে বলতে পারবো।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত যুবককে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজা বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি বিএনপির কর্মী নাকি পথচারী সেটি এখনও তদন্তাধীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আরো বলেন, যে ছেলেটি মারা গেছে, সে সেখানকার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাতিজা। নিহত ব্যক্তি বিএনপির কর্মী নাকি পথচারী সেটি এখনও তদন্তাধীন। আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।

তবে শাওনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তার বড় ভাই ফরহাদ। হাসপাতালে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, শাওন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সকালে স্থানীয় যুবদল নেতাদের ডাকে শাওন শহরে যান। তার কিছুক্ষণ পরই শাওনের গুলিতে নিহত হওয়ার খবর আসে।

Advertisement