মৃত্যুর আগে মিম বলে গেছেন রাব্বি আমাকে নির্যাতন করেছে

রাত ১২টার দিকে বাইরে যান মিম আক্তার (১৫)। ঘরের বাইরে থাকা বাথরুমের দিকে যাবার পথে পেছন থেকে বখাটে ৩ যুবক তাকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাব্বি নামে একজন মিমকে পাশবিক নির্যাতন করে। রাব্বিকে সহযোগিতা করে পাশে থাকা দুই যুবক। মিমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই পাশবিকতার কথা জানাজানি হয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরে লজ্জা সইতে না পেরে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন মিম। এ ঘটনা জানাজানি হলে মিমের বাড়ির সবাইকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বখাটেরা। ‘তোগো বাড়ির সবাইকে মাইরা  ফেলবো’- এই কথাটি মৃত্যুর আগে মিম তার পরিবারের কাছে বলে যান। শনিবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।

রাত ১২টার দিকে বাইরে যান মিম আক্তার (১৫)। ঘরের বাইরে থাকা বাথরুমের দিকে যাবার পথে পেছন থেকে বখাটে ৩ যুবক তাকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাব্বি নামে একজন মিমকে পাশবিক নির্যাতন করে। রাব্বিকে সহযোগিতা করে পাশে থাকা দুই যুবক।

মিমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই পাশবিকতার কথা জানাজানি হয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরে লজ্জা সইতে না পেরে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন মিম। এ ঘটনা জানাজানি হলে মিমের বাড়ির সবাইকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বখাটেরা। ‘তোগো বাড়ির সবাইকে মাইরা  ফেলবো’- এই কথাটি মৃত্যুর আগে মিম তার পরিবারের কাছে বলে যান। শনিবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।

গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে মিমের মৃত্যু হয়। মিমের মামা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নি ফরিদপুর ভাঙ্গা এলাকার দ্বীপ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ তারিখ রাত ১২টার দিকে ঘরের বাইরে থাকা বাথরুমে যাবার পথে বখাটে রাব্বিসহ আরও ২ জন তার মুখ চেপে ধরে বাইরে নিয়ে যায়। পরে রাব্বি আড়াই ঘণ্টা তাকে পাশবিক নির্যাতন করে। রাব্বির সঙ্গে থাকা আরও ২ জন তাকে সহযোগিতা করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে আমার ভাগ্নি। অচেতন অবস্থায় তাকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। 

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ৮০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল ১১টার দিকে আমার ভাগ্নি মারা যায়। মিম মারা যাওয়ার আগে আমাদেরকে জানিয়েছে, রাব্বি আমাকে নির্যাতন করেছে। তার সঙ্গে থাকা আরও ২ জনকে আমি চিনতে পারি নাই। তারা দুজন রাব্বিকে সহযোগিতা করেছে। তারা বলেছে- তোগো বাড়ির সবাইরে মাইরা ফেলাইবো। মিমের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায়। সে হাজারী কান্দা গ্রামের রেজাউল করিমের সন্তান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মিম ছিল দ্বিতীয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

Advertisement