নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন আইজিপি

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন আইজিপি

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটিতে যাচ্ছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। এ মাসের শেষে জাতিসংঘের চিফ অব পুলিশ সামিটে (ইউএনকপ) অংশ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে আইজিপিসহ মোট ৬ জন যাবেন সেখানে। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-৩ শাখা) হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ড. বেনজীর আহমেদকে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ভিসা দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পুলিশপ্রধানদের তৃতীয় সম্মেলন হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব মু. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ উপমহাপরিদর্শক নাসিয়ান ওয়াজেদ ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ আলম।

সফর ও ট্রানজিটের সময় তারা ‘কর্মরত হিসেবে গণ্য হবেন’ জানিয়ে আদেশে বলা হয়, এ সফরের বিষয়ে ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের’ অনুমোদন আছে। চিঠিতে আরো বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ৩০ আগস্ট বা তার কাছাকাছি সময়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়ে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। এদিকে মানবাধিকার

লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক ও বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে বেনজীর আহমেদ ছাড়াও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার লতিফ খান ও র‌্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়। এমনকি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের র‌্যাব ও এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আয়োজক দেশ ও নিউইয়র্কে সদর দপ্তর থাকার কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিসা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তিদের ভিসা না দেয়ার উদাহরণও রয়েছে। সেই হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পুলিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদকে ভিসা দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে।

যোগাযোগ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবার নামে জাতিসংঘ থেকে আমন্ত্রণপত্র এবং জিও হয়েছে। এখন ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইউএনকপে অংশগ্রহণ করব। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু গণমাধ্যমকে বলেন, এ মাসের শেষের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিসহ ছয়জনের নিউইয়র্ক যাওয়ার শিডিউল রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ

-------- আমাদের সকল পোস্ট বা নিউজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা থেকে নেয়া - প্রতিটি পোস্টের ক্রেডিট সেই পোস্টের শেষ ভাগে দেয়া আছে।