তোরা আঁর ফুতরে আনি দে

তোরা আঁর ফুতরে আনি দে

আঁর ফুত আঁর চোগর মানিক, আঁর ফুত হন্ডে গেইয়ে, আঁর ফুত ন মরে। তোরা আঁর ফুতরে আনিদে’—দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার আলো ছড়ানো স্নাতকপড়ুয়া সন্তান জিয়াউল হক সজীবকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন মা শাহেনা আক্তার (৪৫)।

গতকাল সন্ধ্যায় সজীবের মায়ের আহাজারি শোনা যাচ্ছিল হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমানবাজার এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবির লাইনম্যান বাড়ির বাইরে থেকেও। সজীবের মায়ের আহাজারিতে উপস্থিত অন্যদের চোখেও পানি এসে যায়।মিরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১১ জনের মধ্যে সজীবও রয়েছেন।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সজীব সবার বড়। ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে এক বছর আগে। ছোট ভাই তৌসিব উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে। সজীবের বাবা মো. হামিদ আমানবাজার এলাকার একটি মুদি দোকানে চাকরি করেন। সজীবের মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর বাবা। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছেন। তাঁর আশা-ভরসা সব শেষ হয়ে গেল দুর্ঘটনায়।

নিহত আরেকজন কে এস নজুমিয়া স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইকবাল হোসেন মারুফ। তার মা কামরুন নাহার (৪৬) বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমি কাকে নিয়ে থাকব। কিভাবে বাঁচব, তোরা ধনকে ফিরিয়ে দে। ’ আবদুল ওয়াদুদ মাস্টারের বাড়ির বাসিন্দা মারুফের মায়ের কান্নায় অন্যদেরও চোখ মুছতে দেখা গেছে।

স্বজনরা জানায়, মারুফের বাবার সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক না থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করেন কামরুন। মারুফসহ তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থী সন্তানকে হারিয়ে তিনি অকুল পাথারে পড়েছেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১১ জনের মৃত্যুতে চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় যেন ঘরে ঘরে আহাজারি। দুর্ঘটনার পর যুগীরহাট সেখ মার্কেটের আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারের সামনে ভিড় জমায় শত শত মানুষ।

নিহতদের বেশির ভাগ এলাকার কে এস নজুমিয়া স্কুলের শিক্ষার্থী। গতকাল সন্ধ্যায় নিহত মারুফের বাড়িতে ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাধন চন্দ্র নাথ জানান, তাঁদের স্কুলের কমপক্ষে পাঁচজন এসএসসি পরীক্ষার্থী এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।

Advertisement