প্রতি কবর সংরক্ষণ ফি দেড় কোটি টাকা

প্রতি কবর সংরক্ষণ ফি দেড় কোটি টাকা

রাজধানী ঢাকায় সরকারি হিসাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিনই ঢাকায় বাড়ছে মানুষ। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে মাত্র ৯টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ছয়টি। দিনদিন মানুষ বাড়লেও বাড়ছে না কবরস্থানের জায়গা। নির্ধারিত কবরস্থানে নতুন করে আর জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই এসব কবরস্থানে কবর সংরক্ষণের ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করছে সিটি করপোরেশন। যার কারণে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বনানী কবরস্থানে ২৫ বছর কবর সংরক্ষণের ফি নির্ধারণ করছে দেড় কোটি টাকা। আর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে লাগবে ১ কোটি টাকা। এ বিষয়ে উত্তর সিটির দ্বিতীয় পরিষদের ১১তম করপোরেশন সভায় এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত হয়। শিগগিরই একটি অফিস আদেশ জারি হবে বলে জানা যায়।

সিটি করপোরেশন বলছে, গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকায় তুলনামূলক ধনী হওয়ায় তারা সবার কবরই সংরক্ষণ করতে চায়। এ সংরক্ষণকে নিরুত্সাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্হানস্বল্পতার কারণে কবর সংরক্ষণের ব্যবস্হাও সীমিত। চাইলেই কবর সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত সাধারণ জায়গায় স্বজনদের কবর দিতে হয়। নির্দিষ্ট চার্জ দিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণ করা যায়। তবে, জায়গা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সবাই এ সুযোগ পান না। একটি সাধারণ কবর ১৮ থেকে ২০ মাস থাকে। এরপর সেখানে নতুন কারো কবর দেওয়া হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন তিনটি কবরস্থান রয়েছে। সেগুলো হলো—আজিমপুর, জুরাইন (ধলপুর ও মুরাদপুর) ও খিলগাঁও কবরস্থান। ঢাকার কবরস্হানগুলোতে প্রতিটি কবরের জন্য বাঁশ, চাটাই ও খননের ফি স্বজনদের বহন করতে হয়। এছাড়া প্রতি কবরের সাধারণ রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার টাকা এবং সংরক্ষিত কবরে পুনঃ কবর ফি ৫০ হাজার টাকা। ইজারাদারকে পরিশোধের জন্য ফি চার্ট করে দেওয়া থাকলেও নির্ধারিত খরচের বেশিসহ নতুন কবর দিতে ৬-৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয় মৃত ব্যক্তির স্বজনদের।

যে কেউ ইচ্ছা করলে কবর সংরক্ষণ করতে পারেন না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সর্বোচ্চ সুপারিশ থাকলে কেবল সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা কবরস্হানগুলোতে ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদে কবর সংরক্ষণের সীমিত সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে গুনতে হয় যথাক্রমে ৫, ১০, ১৫ ও ২০ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। সেগুলো হলো—উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, বনানী কবরস্থান, খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থান, মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থান। প্রতিটিতে অগ্রিম কবর সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও স্হানপ্রাপ্যতা সাপেক্ষে এসব কবরস্থানে বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণের সীমিত ব্যবস্হা রয়েছে। উত্তরের কবরস্হানগুলো সংরক্ষণের নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক ১৫ থেকে ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়। কবরে সমাহিতকরণের জন্য বাঁশ ও চাটাই সরবরাহের লক্ষ্যে ইজারাদার নিয়োগ করা আছে। দাফনের ফি ৫০০ টাকা এবং প্রতিটি কবরস্থানে বাঁশ ও চাটাই সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। যদিও নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থাৎ ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয় একটি মরদেহ দাফনের জন্য।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কবরস্হানগুলোতে চাইলেই কবর সংরক্ষণ করা যায় না। উচ্চ মহলের কেউ হলে বা সুপারিশের ভিত্তিতে কবর সংরক্ষণ করা যায়। তবে, সেক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা মুজাহিদ আল সাফিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কাছে প্রায় শতাধিক কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের আবেদন রয়েছে। আগে বনানীতে ১৫ বছর সংরক্ষণের জন্য ফি ছিল ২৪ লাখ, এটি করা হচ্ছে ১ কোটি আর ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ, যেটি ছিল সেটি করা হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। আর পুনরায় কবর করার জন্য আগে ফি ছিল ২০ হাজার ৫০০, এখন করা হয়েছে ৫১ হাজার। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশের পরই এটি কার্যকর হবে। আমরা আসলে কবর সংরক্ষণের বিষয়ে নিরুত্সাহিত করতে এ ফি নির্ধারণের কথা ভাবছি। সবাই চায়, তাদের স্বজনদের কবর সংরক্ষণ করতে। এতে কবরের জায়গা সংকোচন হয়ে পড়ছে। তাই ফি বাড়ানো হচ্ছে।’

Advertisement