৫২০ গৃহহীনকে ঘর দিচ্ছে পুলিশ

৫২০ গৃহহীনকে ঘর দিচ্ছে পুলিশ

দেশের প্রতিটি থানায় একটি গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী-মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫২০টি ঘর নির্মাণের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গতকাল এসব ঘর গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগের উদ্বোধন করেন। পুলিশের দেওয়া ঘর উপহার পেয়ে মহাখুশি ৪০০ পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় ঘরে ঘরে এখন আনন্দ। উপকারভোগীদের কেউ কেউ হারিয়েছেন স্বজন। কখনো ভাড়া বাসা, আবার কখনো এর বাড়ি কিংবা ওর বাড়ি- এভাবেই দিন কেটেছে তাদের। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তারা বলেন, ‘আগে থাকতাম রাস্তাঘাটে। এখন ঘর পেলাম। এতদিনের দুর্দশার অবসান হয়েছে।’

পুলিশের দেওয়া ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দৃষ্টিনন্দন প্রতিটি ঘর পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি। গ্যাস, বিদু্যত্, পানি সব কিছুরই ব্যবস্হা রয়েছে ওই ঘরে। নির্মিত প্রতিটি বাড়িতে মোট ৩টি কক্ষ রয়েছে। বাড়িগুলো বুয়েটের  ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলোজি কতৃ‌র্ক অনুমোদিত। গৃহহীন পরিবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম, অতিবৃদ্ধ ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন পরিবার অথবা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একটি প্রকল্পের অধীনে এটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক হলেন ডিআইজি (অপারেশন ও মিডিয়া) হায়দার আলী খান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইজিপি। পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল পুলিশ। করোনা মহামারির কারণে সেসব পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় কিছু অর্থ বেঁচে যায়। সেই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন কার্যক্রমে শামিল হয় বাংলাদেশ পুলিশ। তিনি বলেন, পুলিশকে মানবিক, জনবান্ধব ও জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্হাপন করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। দেশের ৬৫৯টি থানায় একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক কর্মকর্তা থানায় যাওয়া নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সমস্যা মনোযোগ সহকারে শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্হা নিশ্চিত করে থাকে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মুজিববর্ষের সূচনালগ্ন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সার্ভিস ডেস্ক চালু করা হয়। এ পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ৪৭৬ জন নারী, ৩২ হাজার ২৮৬ জন শিশু, এক লাখ ৩৮ হাজার ৩২৫ জন পুরুষ এবং ১১ হাজার ৮১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অর্থাত্ মোট তিন লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকে। কিন্তু এই অভিযোগ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রায় আড়াই লাখ পুলিশের মধ্যে এই সংখ্যা খুবই সীমিত। পুলিশ যেকোন দুর্যোগে মানবিক সেবা দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। করোনার অতিমারির সংকটকালে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলো পুলিশ সদস্যরা। কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করেছে পুলিশ। কখনো সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালায় অভিযান। অন্যদিকে খাবারসহ সহায়তা নিয়ে গেছে হতদরিদ্রদের কাছে। হাসপাতালে রোগীকে পৌঁছে দেওয়া, কোয়ারেন্টাইন পালনে সহায়তা করা, চিকিত্সায় সহায়তা, করোনায় মারা গেলে জানাজা পড়ানো, কবর খোঁড়া, দাফন সম্পন্ন, আক্রান্তদের পরিবারকে সুরক্ষায় সহায়তা করা, ত্রাণ দেওয়ার কাজে সহায়তা করা, অক্সিজেনের ব্যবস্হা করা, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্হা করাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজ করেছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও ভাল করছে পুলিশ। মানুষকে তাত্ক্ষনিক সেবা দিতে পুলিশে চালু করা হয়েছে ‘৯৯৯’ নামের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। এটা খুবই জনপ্রিয়। এবার গৃহহীনদের ঘর করে দিয়ে পুলিশ আরেকটি ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করলো।

আমাদের মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ মিরসরাই থানার উদ্যোগে নতুন ঘর উপহার পেয়েছেন সাফিয়া খাতুন। তিনি মিরসরাই পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী। ‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশ দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির আওতায় মিরসরাই থানায় গৃহহীন সাফিয়া খাতুনকে একটি  জমিসহ বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। সাফিয়া খাতুন (৪৫) বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে পরিবার নিয়ে এতোদিন গৃহহীন অবস্হায় অরক্ষিত জীবনযাপন করেছি। এখন আমি একটি সুন্দর বাড়ি পেয়ে নিরাপদে বাঁচতে পারবো। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুলিশের সকল কর্মকর্তাদের জন্য দোয়া করি। সবাই যেন ভালো থাকেন।’

0 মন্তব্যসমূহ

-------- আমাদের সকল পোস্ট বা নিউজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা থেকে নেয়া - প্রতিটি পোস্টের ক্রেডিট সেই পোস্টের শেষ ভাগে দেয়া আছে।