কিয়েভ রক্ষায় লড়ছে ইউক্রেনীয় যুবক

ইউক্রেনীয় যুবক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রক্ষায় প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছে ইউক্রেনবাসী। গতকালও কিয়েভের বিভিন্ন বেসামরিক ভবনে হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। পালটা প্রতিরোধ করেছে ইউক্রেনের নাগরিকরা। এ সময় চার রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে রুবলের দরপতনের কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মস্কো স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ ছিল। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। আর ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউক্রেনে ন্যাটোর ‘নো ফ্লাই জোন’ এর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তা হবে পারমাণবিক যুদ্ধ।


কিয়েভ রক্ষায় প্রাণপণ লড়াই

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বুধবার কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গেছে যাতে দেখা যায়, কিয়েভের ইরপিন নামের শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আরপিনের আকাশে ভবনের সামান্য উপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ঘুরছে। এ সময় কিছু আবাসিক ভবনে বোমা ফেলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সামরিক যান থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন রুশ সৈন্যের মৃতদেহ পড়ে আছে। কিয়েভের সাধারণ নাগরিকরাও রুশ বাহিনীকে প্রতিরোধে রাস্তায় নেমেছেন। এছাড়া বিভিন্ন শহরে ইউক্রেনের বিভিন্ন বিভাগের খেলোয়াড়রাও বন্দুক হাতে লড়াই করছে। মঙ্গলবার কিয়েভের টিভি ভবনে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। 

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ছয়দিনের যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৪ শিশুসহ ১৩৬ জন নিহত হয়েছে। আর ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ছয়দিনে ছয় হাজার রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে। ক্রেমলিন প্রকাশ্যে তাদের সৈন্য হতাহতের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে গতকাল পর্যন্ত জানায়নি। এদিকে গতকাল বুধবার বেলারুশ সীমান্তে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। যদিও ইউক্রেন জানিয়েছে, বৈঠকে তেমন কোনো ফল হবে বলে তারা মনে করেন না।


পুতিনকে শাস্তি দিতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে লড়াইয়ের জন্য সৈন্য পাঠাবে না বলে আবারও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনে হামলার জেরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে শাস্তি দিতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। রুশ অর্থনীতি দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র আরো পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, পুতিনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ন্যাটোভুক্ত এবং অন্যান্য দেশ মিলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, রাশিয়ার মুদ্রা রুবল ধ্বংসের পথে। এজন্য টানা তিনদিন ধরে মস্কোর স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যে রাশিয়ার অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সেক্রেটারি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন পুতিনকে শাস্তি দিতে চান, সারা বিশ্ব বাজারকে সংকটে ফেলতে চান না।


রুশ হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল : বরিস

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। গতকাল বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেন, ইতিমধ্যে দেখা গেছে, ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুতিনের বাহিনী। আর এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি বলেন, পুতিন ইউক্রেন নিয়ে বড় ভুল হিসাব কষেছেন। প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেন, একটা সার্বভৌম দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। পুতিনের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, পুতিনের শাসনকে দুর্বল করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেন, পুতিন অবশ্যই ব্যর্থ হবেন এবং আমরা সফল হবো।


ইউক্রেনে ‘নো-ফ্লাই জোন’ নাকচ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের আকাশ সীমায় ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার জন্য ইউক্রেনের পক্ষ থেকে গত ক’দিন ধরে ন্যাটো জোটের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে একাধিকবার ন্যাটোর প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস গতকাল আবারো সেই সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন ন্যাটো যদি তেমন ঘোষণা দেয় এবং রাশিয়া যদি তা ভাঙার চেষ্টা করে তবে পুরো ইউরোপ জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমেরিকার পক্ষ থেকেও এর আগে ইউক্রেনে নো ফ্লাই জোনের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ যেভাবে হামলা প্রতিহত করছে তাতে বড় কোনা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া রাশিয়ার জন্য দুরূহ হবে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মত বিশাল আয়তনের এবং প্রায় সাড়ে চার কোটি জনসংখ্যার মত একটি দেশ দখলে নেওয়া রাশিয়ার জন্য খুবই কঠিন হবে। তার মতে, ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে এক দেশে হামলা করা এক জিনিস আর ৪৪ মিলিয়ন মানুষ, যারা রাশিয়াকে চায় না তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা আরেক জিনিস। ওয়ালেস বলেন, তেমন কাজ করতে গেলে বেসামরিক লোকের মৃত্যুর সংখ্যা হুহু করে বাড়বে। উদাহরণ হিসাবে তিনি চেচনিয়া যুদ্ধ এবং পশ্চিমা শক্তির ইরাকে আক্রমণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।


তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তা হবে পারমাণবিক যুদ্ধ: ল্যাভরভ

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তাতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ মি লাভরভকে উদ্ধৃত করে বলছে ইউক্রেনের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র আসে তাহলে তা রাশিয়ার জন্য সত্যিকারের হুমকি তৈরি করবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পশ্চিমা শক্তির সমর্থন নিয়ে ইউক্রেন পরমাণু অস্ত্র হাত করার চেষ্টা করবে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে দেওয়া এক ভাষণে ল্যাভরভ একথা বলেন। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

Advertisement