যমুনা গ্রুপের দুই কোটি টাকা সরানোর চেষ্টার কথা স্বীকার জালিয়াতচক্রের

যমুনা গ্রুপের দুই কোটি টাকা সরানোর চেষ্টার কথা স্বীকার জালিয়াতচক্রের

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে জাকির হোসেনসহ জালিয়াতচক্র। এছাড়া মামলার আসামি মাজহারুল ইসলাম মাসুমসহ অন্য পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। সই জাল করে গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা বিল্ডার্সের হিসাব থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করে তারা। চক্রটি ব্যাংক থেকে আরও কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

জাকির হোসেন ছিলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার এসএমই সেলস টিম ম্যানেজার। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফন্দি করেন, যমুনা বিল্ডার্সের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ করবেন। গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর জালিয়াতি করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিডেটের (ডিবিবিএল) রামপুরা ও মতিঝিল শাখায় থাকা যমুনা গ্রুপের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা সরিয়ে নিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (আরটিজিএস) ভুয়া আবেদন করে। এ বিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা যমুনা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

 আর এ কারণে প্রতারকরা টাকা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। যমুনা গ্রুপের টাকা সরিয়ে নিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের আবেদনটি জমা দিয়েছিলেন চক্রের সদস্য মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ও নুরুল আলম। ব্যাংক কর্মকর্তারা যমুনা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা ব্যাংকের শাখা থেকে পালিয়ে যান। তবে ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরদিন রাজধানীর রামপুরা থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন যমুনা গ্রুপের আইন কর্মকর্তা মো. সোলায়মান কবির।

রামপুরা থানায় করা যমুনা গ্রুপের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু গ্রেফতার করতে পারছিলাম না। চক্রটিকে ভাটারা থানার পুলিশ গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হয়েছি, তারাই যমুনা গ্রুপের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যমুনার মামলায় জাকিরসহ অন্যদের গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ওই মামলায় মাজহারুল ইসলাম মাসুমসহ কয়েকজন আসামি হলেও আড়ালেই ছিলেন মূল হোতা জাকির। সম্প্রতি ভাটারা থানায় গ্রেফতার হওয়া জাকিরসহ দশজনকে আমরা যমুনা গ্রুপের মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তারা জানিয়েছেন, যমুনা গ্রুপের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ভাগবাটোয়ারারও পরিকল্পনা চূড়ান্ত ছিল। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাকিরের পাওয়ার কথা ছিল ৪২ লাখ, আর বাকিটা অন্যদের। জিজ্ঞাসাবাদে তারা যমুনা গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে জালিয়াতির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করলেও আদালতে গিয়ে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।

জানা গেছে, জাকিরের ওই চক্রটি ওয়ালটন ও ইউনাইটেড গ্রুপের ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল গত ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এর দুদিন পর চক্রটির ১০ সদস্য জাকির হোসেন, ইয়াসিন আলী, মাহবুব ইশতিয়াক ভূঁইয়া, আনিছুর রহমান সোহান, দুলাল হোসাইন, আসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, জাকির হোসেন, আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের দাবি, তখনো রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের মূল হোতা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার এসএমই সেলস টিমের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। ভাটারা থানায় উপপরিদর্শক হাসান মাসুদও বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা যমুনা গ্রুপের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আরও দুজনের নাম বলেছেন। এ দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, জালিয়াতচক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সব রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আমি আশাবাদী।

0 মন্তব্যসমূহ

-------- আমাদের সকল পোস্ট বা নিউজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা থেকে নেয়া - প্রতিটি পোস্টের ক্রেডিট সেই পোস্টের শেষ ভাগে দেয়া আছে।