উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী অভিভাবকরা

উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী অভিভাবকরা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। করোনার জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে শুধুমাত্র তিন বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিলে ফলাফল ভালো হলেও উচ্চশিক্ষা ভির্তর নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ১২ টায় ফলাফল ঘোষণার পর শঙ্কার কথা তুলে ধরেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। মেহেজাবিন নামে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার জন্য আমাদের সিলেবাস ছোট করে তিন বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছি। আমার ইচ্ছা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির সময় কম। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়ে বড় সিলেবাসের ভর্তি পরীক্ষা দেয়া অনেক চ্যালেঞ্জের। তাই একটু চিন্তিত আছি।

মাহিয়া নাজনিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ায় সম্পূর্ণ বিষয়ে জানি না। প্রস্তুতির কম সময়ের মধ্যে সকল বিষয়ে কাভার দিতে পারব কিনা জানি না। তাই সামনে আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবো। এই চ্যালেঞ্জটা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর জন্য। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

জিপিএ ৫ পাওয়া জান্নাতুল প্রজ্ঞা বলেন, যে রেজাল্ট হয়েছে আমি খুবই খুশি। কিন্তু সামনে এডমিশন পরীক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ লং সিলেবাসে পরীক্ষা হবে। সময়ও কম। এখন থেকেই প্রিপারেশন নিচ্ছি।

মাইসা নামে এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, করোনার মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা হলেও আমরা খুশি। কারণ অটো পাশের চেয়ে পরীক্ষা ভালো। কিন্তু সামনে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে চিন্তায় আছি। কারণ শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ায় সকল বিষয়ে বেসিক নেই। তারওপর অনলাইনে ক্লাস করে সকল বিষয়ে শেখা যায় না। তবে আমার মেয়ের প্রতি ভরসা আছে সামনেও ভালো কিছু করবে বলে আশা করছি। আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে কথা বললে উচ্চ শিক্ষা ভর্তি নিয়ে তারাও একই শঙ্কার কথা জানান।

উল্লেখ্য, এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ১৩.৭৯ শতাংশ।

এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৯৬.২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ হাজার ২৩৩ শিক্ষার্থী, রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৭.২৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী; বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৯৫.৭৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৭১ শিক্ষার্থী; কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯৭.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থী এবং দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৯২.৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯ শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮৯.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭২০ শিক্ষার্থী; সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৯৪.৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ শিক্ষার্থী এবং যশোর বোর্ডে পাসের হার ৯৮.১১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ শিক্ষার্থী।

Advertisement