বাতিল হওয়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি আবারও হবে

বাতিল হওয়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি আবারও হবে

গত বছর সেপ্টেম্বরে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনার। সাও পাওলোতে মাত্রই ম্যাচ শুরু হয়েছিল, কিন্তু সেই ম্যাচ আর শেষ হতে পারেনি। ফুটবল দুনিয়া দেখেছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ বাতিল হলো।

ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় করোনা বিধিনিষেধ ভাঙায় আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়কে ধরতে মাঠে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। খেলোয়াড় ও স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তাদের মধ্যে হাতাহাতিতে ম্যাচ হয় পণ্ড।

তখনই সবাই জানতো, যেহেতু ব্রাজিলের মাঠে খেলা অতএব ব্রাজিলকেই এর মাশুল গুনতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করার সব দায়িত্ব ব্রাজিলের ছিল। যেহেতু খেলাটি ছিল ব্রাজিলের মাঠে এবং দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ম্যাচ আবার হবে। নিরপেক্ষ একটি ভেন্যুতে ম্যাচটি খেলার নির্দেশ দিয়েছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন বাস্তবিক বিষয় তদন্তের প্রেক্ষিতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি মনে করছে ম্যাচটা পুনরায় খেলা উচিত। ম্যাচের তারিখ এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে তা ঠিক করবে ফিফা।’

সেপ্টেম্বরে স্থগিত হওয়া সেই ম্যাচের আগে ব্রাজিলে ঢোকার জন্য আর্জেন্টিনা দলের ইংলিশ লিগে খেলা চার ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জিওভান্নি লো সেলসো ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই চারজনকে ফিফাও দিয়েছে শাস্তি। আগামী দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকবেন তারা।

শুধু চার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নয়, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনকে যথাক্রমে ৫ লাখ ও ২ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। আর ম্যাচ স্থগিত হওয়ার জন্য দুই দেশের ফেডারেশনকে একসঙ্গে ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তবে ফিফার এই রায়ে ক্ষুদ্ধ দুটি ফেডারেশনই। দুই ফুটবল ফেডারেশনই ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতিতে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ফিফার দায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের সেই ম্যাচকে ঘিরে দেওয়া রায়টি পুনর্বিবেচনা করতে ফিফাকে অনুরোধ করা হয়েছে। এই বিবৃতির আগেই টুইটারে এএফএ প্রধান ক্লাউদিও তাপিয়া লিখেছেন, ‘এএফএ সভাপতি হিসেবে আমি প্রতিজ্ঞা করছি ফিফার এই রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমি করবো। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল সবসময় আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এক বিবৃতির মাধ্যমে ফিফার রায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে এরই মধ্যে এটি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি সামনে প্রয়োজন পড়লে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে তারা।

0 মন্তব্যসমূহ