করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এই হচ্ছে অবস্থা বাংলাদেশের

করোনা সংক্রমণ বাড়লেও উধাও স্বাস্থ্যবিধি

পূর্বাচলে নতুন স্থায়ী কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা কতটা জমবে—তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে গত দুই দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়ে। 

শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও ছুটির দিনে মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। তবে ভিড় বাড়লেও অধিকাংশ দর্শনার্থীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। মাস্ক ছাড়া মেলার গেটে প্রবেশ কঠোর করা হলেও মেলায় প্রবেশ করেই অনেকে মাস্ক খুলে ফেলেন। মেলা কর্তৃপক্ষ গেটে হ্যান্ডস্যানিটাইজার রাখলেও দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই তা ব্যবহার করেননি।

মেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা গা ঘেঁষে ধাক্কাধাক্কি করে দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করছেন। একই অবস্থা ছিল স্টলগুলোতেও। সেখানেও সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে না। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হবে। কোনো ক্রমেই এখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা যাবে না। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট চালু করে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হবে।

গতকালও মেলায় আসা-যাওয়ার পথে ও আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে দর্শনার্থীরা। যানজট সৃষ্টির কারণ হিসেবে মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা ও গাড়ি চালকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন অনেকে। তবে যথেষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকলে যানজট হতো না বলে জানান দর্শনার্থীরা।

মেলা কতৃ‌র্পক্ষ জানিয়েছে, যানজট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের আলাদা পার্কিং ব্যবস্থার পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান মেলার আশপাশের সড়কে প্রবেশ নিষেধ করা হয়। এছাড়া যেখানে সেখানে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ সব পরিবহনের অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে নতুন করে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এসব উদ্যোগের ফলে যানজট হবে না। এছাড়া ধুলা নিরসনে মেলা প্রাঙ্গণে দফায় দফায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল ছুটির দিন থাকায় আগের দিনের মতো মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। বিকালের দিকে এই ভিড় আরো বাড়তে থাকে। গোল্ডেন ইনফিনিটি ইলেকট্রিক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার মাহবুবুল আলম বলেন, শুক্র ও শনিবারের বিক্রিতে স্টল মালিকরা খুশি। গত কয়েক দিনের তুলনায় দুই দিন বিক্রিও হয়েছে প্রচুর।

পারটেক্স ফার্র্নিচারের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ এ জে এম ফয়সাল বলেন, আগে বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল নামত। তবে গত শুক্র ও শনিবার ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমন ছিল উল্লেখযোগ্য। মেসার্স হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবারের তুলনায় শনিবারে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম ছিল তুলনামূলক কম।

গতকাল মেলা থেকে কাশ্মীরি শাল কিনেছেন ডেমরার সাবিহা সুলতানা। তিনি বলেন, নিয়মিত মার্কেটের চেয়ে কম দামেই তিনি বাণিজ্য মেলা থেকে শাল ক্রয় করেছেন। নতুন স্থানে বাণিজ্য মেলায় এসে প্রাকৃতিক ও গ্রামীণ পরিবেশে এক অন্য রকম অনুভূতি অনুভব করেছেন বলে তিনি জানান।

Advertisement