দেশের সব বিমানবন্দরে রানওয়ের নিরাপত্তা জরুরি

দেশের সব বিমানবন্দরে রানওয়ের নিরাপত্তা জরুরি

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে গরু ঢুকে পড়ার ঘটনা অন্য সব বিমানবন্দরের জন্যও সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, শুধু গরুই নয়, ছাগল, কুকুর এমনকি মানুষ পর্যন্ত এ বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় বিপদজনকভাবে চলাচল করত। অভ্যন্তরীণ রুটের আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের রানওয়ের অবস্থাও এমন ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে কক্সবাজারের পাশাপাশি সব বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

গত মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উড্ডয়নের সময় বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭ (বিজি ৪৩৪ ফ্লাইট) এর ধাক্কায় রানওয়েতে থাকা দুটি গরু মারা যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৯৪ যাত্রীসহ বিমানটি রক্ষা পেলেও এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা হয়। সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর এলাকায় গরু এল কীভাবে সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর একটি অংশ ভাঙা। এর পাশেই আছে আনসারদের ক্যাম্প। দায়িত্বরত চার আনসারকে পরের দিন বুধবার বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া রানওয়ের চারপাশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরার পরিকল্পনাও নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর থেকে সবার দৃষ্টির অগোচরে গরু দুটি রানওয়েতে এল কীভাবে, কেনই বা কারও দৃষ্টিতে তা পড়েনি- এসব প্রশ্নের এখনও সদুত্তর মেলেনি। নিয়ম অনুযায়ী, রানওয়েতে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে কন্ট্রোল টাওয়ার বিমান ওড়ার অনুমতি দেয়।

বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈমুল হক ভোরের কাগজকে জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়ানো হচ্ছে। যে কারণে সীমানার কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে। পাশেই আনসারদের একটা পোস্ট রয়েছে। সম্ভবত আলো কম থাকায় গরু ভেতরে ঢুকে পড়ার বিষয়টি তারা খেয়াল করতে পারেননি।

তবে বিষয়টিকে সহজভাবে দেখতে চান না অ্যাভিয়েশন খাতের বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম। তিনি বলেন, কক্সবাজার এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক ও অ্যাভিয়েশন হাব করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন সময় এ ঘটনা রীতিমতো অমার্জনীয়। ভবিষ্যতে যাতে না হয় আর সেজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ওই বিমানবন্দরে গরু, ছাগল, কুকুর বা মানুষ বিচরণের খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। দেশের কয়েকটি ছোট বিমানবন্দরেই নানা ধারনের নিরাপত্তা ঘাটতি আছে। বড় দুর্ঘটনার আগেই সেগুলো সমাধান করা দরকার। কারণ এটি একটি সতর্কবার্তা।

এদিকে, কক্সবাজারের স্থানীয় সূত্র জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর সীমানা দেয়ালের ভাঙা অংশকে ‘শর্টকাট’ পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন নুনিয়াছড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ৬ নম্বর এলাকার লোকজন। গরু, ছাগল, কুকুর, শেয়াল প্রভৃতি প্রাণিও দেখা যায় বিমানবন্দরের ভেতরে। অনেকে অকারণে ঘোরাঘুরি করেন রানওয়ে এলাকায়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার মো. গোলাম মোর্তুজা হোসেন বলেন, ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি খুঁজতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কয়েকটি পয়েন্টে সীমানা প্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। যতদিন কাজ চলবে, ততদিন নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। সেখানে কাটাতারের বেড়া স্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সেটিও বাস্তবায়নের কথা বিবেচনা করছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে যেমন বাড়ছে তেমনি অবকাঠামোরও উন্নয়ন হচ্ছে। তবে সেভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অভাব রয়েছে। এ বিমানবন্দরের চারদিকে গাইডওয়াল নেই। গরু-ছাগল ঢুকছে, রানওয়ে দিয়ে এপারের লোক ওপারে সহজে যাতায়াত করছে। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হলেও বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারো গাফিলতি রয়েছে কি না তাও দেখতে হবে। তিনি বলেন, মঙ্গলাবারের ঘটনা থেকেই শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন, যেন এ জাতীয় ঘটনা আর না ঘটে।

0 মন্তব্যসমূহ

-------- আমাদের সকল পোস্ট বা নিউজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা থেকে নেয়া - প্রতিটি পোস্টের ক্রেডিট সেই পোস্টের শেষ ভাগে দেয়া আছে।