বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে শিক্ষার্থীরা, আন্দোলন স্থগিত

বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে শিক্ষার্থীরা, আন্দোলন স্থগিত

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের স্মরণে কালো ব্যাজ পরে রাজধানীর সড়কে নেমেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজের উপর মানববন্ধন শুরু করেন তারা। এসময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে মৌন প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী সোহাগী সামিয়া কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে আবহাওয়া ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের কলেজ থেকে স্কুল পর্যন্ত সাইকেল র‌্যালি করে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও শিক্ষক শিক্ষার্থী সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়।

সোহাগী সামিয়া বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা আগামীকাল কোন কর্মসূচি রাখছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি আরও কয়েকদিন এরকম বৈরী আবহাওয়া থাকবে। যতদিন পর্যন্ত এই বৈরী আবহাওয়া থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আমরা আবার কর্মসূচি চালিয়ে যাব। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। একটি হচ্ছে মঈনুদ্দীনের স্কুল থেকে নাইমের কলেজ পর্যন্ত সাইকেল র‍্যালি করব। পরে নাইমের কলেজে আমরা মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করব। অপরটি হচ্ছে আমরা ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে একটি সমাবেশ করব।

আজকের মানববন্ধনের বিষয়ে সোহাগী সামিয়া বলেন, এই যে এতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে কিন্তু প্রশাসন বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদে আমরা আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব আন্দোলন পালন করছি।

আজ আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা কেন কালো কাপড় মুখে বেঁধে নেমেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সোহাগী সামিয়া বলেন, এর প্রথম কারণ হচ্ছে আজ পর্যন্ত সড়কে যারা নিহত হয়েছেন দুর্ঘটনায় তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করার জন্য আমরা কালো কাপড় বেঁধেছি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সরকারের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করছি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়ার পর্যন্ত আন্দোলন করব। প্রয়োজন হলে আমরা আরও ২১ বছর আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আলী তুষার বলেন, অনিয়মের বলি হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আজকের এই প্রতিবাদী মানববন্ধন পালন করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকার এখনো আমাদের দাবি মানেনি। কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। মালিক সমিতি হাফ ভাড়ার মৌখিক ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমরা প্রজ্ঞাপন জারি চাই। যতদিন সেটা না হচ্ছে আন্দোলন চলবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসের ভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। পরে রামপুরায় মাঈনুদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থী অনাবিল পরিবহণ বাসের চাপায় নিহত হয়।

তারপর থেকে নিরাপদ সড়ক, অর্ধেক ভাড়াসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীতে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিবহণ মালিক সমিতি।

Advertisement