যেভাবে সুগন্ধা নদীতে সেই লঞ্চে আগুন লাগে

যেভাবে সুগন্ধা নদীতে সেই লঞ্চে আগুন লাগে

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ জনের মরদেহ। আহতদের একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ প্রায় ১০০ জন।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) গভীর রাত তিনটায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে এলে লঞ্চ থেকে কিছু যাত্রী লাফিয়ে নামতে পেরেছেন।

লঞ্চের কেবিন বয় ইয়াসিন বলেন, ইঞ্জিনরুমের পাশে ক্যান্টিন। সেই ক্যান্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ধরে যায় ১৩ ব্যারেল ডিজেলে। যা ছড়িয়ে পড়ে পুরো জাহাজে। জানা গেছে, ওই লঞ্চে অগ্নি নির্বাপকের ব্যবস্থা ছিল না।

এসময় যাত্রীরা অভিযোগ করেন, লঞ্চটির ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামতের জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ছাড়া ইঞ্জিনের ট্রায়াল দিতে পারত। কিন্তু প্রায় ৭০০ যাত্রী নিয়ে এই ট্রায়াল দেওয়ার কারণেই এতগুলো মানুষের দগ্ধ ও প্রাণহানি হলো। এর দায় কে নেবে, প্রশ্ন করেন তারা।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, লঞ্চে পাঁচ শতাধিক যাত্রী থাকলেও আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তবে ঠিক কতজন লোকের মৃত্যু হয়েছে এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠি সদরের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে এমভি অভিযানের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। দ্রুত তা পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই নদীতে ঝাঁপ দেন। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনায় যাচ্ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লঞ্চে শিশু-বৃদ্ধ-নারীসহ পাঁচ শতাধিক বেশি যাত্রী ছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা। তবে কুয়াশার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে। এদিকে আহত ৭০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমরা রাত সাড়ে তিনটার দিকে লঞ্চে গিয়ে আগুন নেভাই। এ সময় কর্তৃপক্ষের কাউকেই পাইনি। পরে স্পিডবোট দিয়ে খোঁজাখুঁজিও করি। লঞ্চের কেবিনে কেবিনে লাশ পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ইঞ্জিনরুমে আগুন ধরে গিয়েছিল। লঞ্চে আমরা অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থার কিছুই পাইনি।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা এবং এটি ট্রায়াল যাত্রা ছিল কি না, সেসব বিষয় তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। এই কমিটির প্রতিবেদন দিলে বোঝা যাবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে আগাম কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

0 মন্তব্যসমূহ