পানির বিল এক লাফে দ্বিগুণ, তোপের মুখে মেয়র

পানির বিল এক লাফে দ্বিগুণ, তোপের মুখে মেয়র

পানির বিল এক লাফে দ্বিগুণ করার পর তোপের মুখে আছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পানির বিলের আগুন এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাজপথসহ সর্বত্র। এমনকি পানির বিল পুনর্বিবেচনায় মেয়রের আশ্বাসেও কোনো কাজে আসছে না।

বিবৃতি, মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে রাজনৈতিক, সামাজিক অনেক সংগঠন। সুশীল সমাজ, রাজনীতিকসহ সব মহলের এক দফা এক দাবি পানির বিল কমাতেই হবে।

মেয়র আরিফের দাবি, সব কিছুরই দাম বেড়েছে, পানিরও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে তাই বিল বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তার এমন দাবি আমলে নিচ্ছেন না কেউই।

সংবাদপত্র ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, সারা দুনিয়ায় যে কোনো পণ্যের দাম মাত্রাতিরিক্ত কমলে তা ‘পানির দাম’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। একমাত্র সিলেটেই শুধু ‘পানির দাম’ বলতে ভিন্ন অর্থ বুঝায়। এখানে পানির দাম মানে ‘অগ্নিমূল্য’!

ইসমাইল হোসেনের মতো নগরীর অসংখ্য পানির গ্রাহকের দাবি, পানির বিল বাড়িয়ে নয়, স্বাভাবিক রেখেই বকেয়া আদায় করা হোক। করোনার টানা সংকটময়কাল কোনো প্রকারে মোকাবেলা করা সাধারণ নগরবাসীর ওপর পানির বিলের দ্বিগুণ ধকল চরম অমানবিক।

এদিকে সিসিক এর সংশ্লিষ্ট বিভাগের দাবি, নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৮ কোটি লিটার। এই পানি সরবরাহে মাসে ১ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় হয় মাত্র ৫০ লাখের মতো। ফলে পানির বিল দ্বিগুণ করে খরচটুকু আদায়ের চেষ্টা চলছে।

পানির বিল দ্বিগুণ করার প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ কড়া ভাষায় বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, দাম না কমালে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোর দাম কমানো সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপি স্তূপ হয়ে যাচ্ছে নগর ভবনে। এসবে কাজ না হওয়ায় এখন একের পর এক ঘোষণা আসছে নগর ভবন ঘেরাওয়ের।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পানির বিল কমানোর বিষয়টি এখন দাবি থেকে গণদাবিতে রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় কোনো জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি আর এড়িয়ে চলা ঠিক নয়। পানির বিল দ্বিগুণ না করেই কোটি কোটি টাকা বকেয়া রাখা গ্রাহকদের বিল আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।

এমন অভিযোগের জবাবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আগামী সাধারণ সভাতেই এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। নগরবাসীর দাবি, পানি সরবরাহের খরচ বৃদ্ধি, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুনের সাধারণ সভায় মাসিক পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে পানির মূল্য দ্বিগুণ করে।

Advertisement