জিয়ার শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে নির্বিচারে ॥ দীপু মনি

জিয়ার শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে নির্বিচারে ॥ দীপু মনি

শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ’৭৫ পরবর্তীতে আমরা দেখেছি, একজন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিয়েছে; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা নিধনে সে ছিল সিদ্ধ-হস্ত। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পরে প্রথমে খুনি মোস্তাকের সরকার, তারপর স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছিল জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে নির্বিচারে। চলেছে মুক্তিযোদ্ধা নিধনের মহোৎসব। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকে অপমানিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সুইমিং কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ শত্রুমুক্ত দিবস এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ‘বিজয় পথে পথে’ শিরোনামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওই মহাসমাবেশে শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে যুদ্ধাপরাধীদেরকে সমাজে, রাষ্ট্রে ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। শহীদের রক্তরঞ্জিত পতাকা তুলে দেয়া হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে। তাদেরকে বসানো হয়েছে রাষ্ট্র-ক্ষমতায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিদেশে চাকুরী দিয়ে সম্মানিত করার চেষ্টা হয়েছে; দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ এই দেশটি তো খুনির দেশ ছিল না - এখনও নয়।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনসহ সমস্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে একে একে ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে “জয় বাংলা” ও ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; নিষিদ্ধ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াকে। তখন ইতিহাসের বিকৃতি দেখেছি প্রতি পদে পদে। বাংলাদেশকে পাকিস্তানীকরণের সকল চেষ্টা সেদিন হয়েছে। জয় বাংলার বদলে পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদোলে বাংলাদেশ জিন্দবাদ করা হয়েছে। রেডিও পাকিস্তানের আদোলে বাংলাদেশ বেতারকে বদলে রেডিও বাংলাদেশ করা হয়েছে।

ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বিধাতা তৈরীই করেছেন এ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য। সেজন্যই এক সাগর শোক পাড়ি দিয়ে, শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এ দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন দীর্ঘকাল। যখন মানুষ তাকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন, তখন তিনি দেশকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। আবার নব উদ্যমে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছে তার মুক্তির লক্ষ্যে, জাতির পিতার দেখানো পথে, তাঁর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা অর্জনের লক্ষ্যে।প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলকে শপথ পাঠ করান।

জেলা প্রশাসক সাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিকদার নূর মোহাম্মদ দুলু, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, প্রাক্তন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর, প্রমূখ।

পরে সেখানে পরিবেশিত হয় স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পীদের অংশগ্রহণে গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবসের চিত্রনাট্য। এছাড়াও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাত ৯টায় শেষ হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহাসমাবেশ।

0 মন্তব্যসমূহ