প্রতিহিংসায় বিষ প্রয়োগে ৯ লক্ষ টাকার মাছি নিধন

প্রতিহিংসায় বিষ প্রয়োগে ৯ লক্ষ টাকার মাছি নিধন

মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের অপরূপ দৃশ্য। পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে সুন্দর এক হলুদের চাদরে। তাই এই সুযোগে মধু চাষিরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সরিষার ক্ষেতে মধু সংগ্রহের কাজে। স্বপ্ন এবার আর পুরোন হলো তাদের। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দি গ্রামে একটি মৌমাছি খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার মৌমাছি নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ব্যবসায়ীক প্রতিহিংসার প্রেক্ষিপ্তে শিকারী মৌমাছির বক্সে বিষ প্রয়োগে মাছি গুলোকে নিধন করা হয় বলে অভিযোগ উঠে ফরহাদ আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে ফজর আলী, সাতক্ষীরা থেকে প্রতি বছর সরিষা মৌসুমে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এসে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। প্রায় ১ মাস যাবত এই এলাকায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মধু সংগ্রহ করে আসছেন। গত ২২ ডিসেস্বর রৌমারী সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দি গ্রামের পশ্চিমে জাফর আলীর জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য বক্স স্থাপন করেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ এর ছেলে ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাহার সহযোগীতা বা অনুমতি ছাড়া মধু চাষ না করিলে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি সাক্ষাতে বিভিন্ন গালমন্দ, আর্থিক ক্ষতি করা এবং প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দেয়। পর দিন শুক্রবার সকালে মৌ-চাষি ফজর আলী তার খামারে গিয়ে দেখতে পায় ১২৬টি মৌমাছির বক্সের মাছি মরে পরে আছে। পরে সেখানে থাকা নাইট্রো ৫০৫ ইসি বিষের বোতল পাওয়া যায়। এতে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন ওই মৌচাষি। বিবাদীর এমন অমানবিক কর্মের বিচার ও আর্থিক ক্ষতি সাধনে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৌচাষি ফজর আলী।

এব্যাপারে অভিযোগ কারি ফজর আলী বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে রৌমারীতে মৌমাছির দ্বারা মধু সংগ্রহ করে আসছি এবং তা দিয়ে আমাদের বেশ কয়কজনার সংসার চলে। কিন্তু ব্যবসায়ীক প্রতিহিংসার বলিতে আমার মৌমাছির খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় সব মৌমাছি মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই। আমাদের সংসার চলে মধু সংগ্রহ করে। তাই সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগীতা কমনা করছি। অভিযুক্ত ফরহাদ আলীর সাথে কথা হলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যান এবং বলেন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তে দোষী প্রামাণীত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং তাদেরকে কোন সহযোগীতার ব্যবস্থা করা যায় কি না বিষয়টি দেখবো।

0 মন্তব্যসমূহ