জাপানি শিশুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কাল, দুইপক্ষের আইনজীবী যা বলছেন

জাপানি শিশুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কাল, দুইপক্ষের আইনজীবী যা বলছেন

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইমরান শরীফ ও জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানোর দুই শিশুকন্যার জিম্মা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামীকাল রোববার। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রোববারের কার্যতালিকায় মামলাটি বেলা সাড়ে ৩টায় রায় ঘোষণার জন্য রাখা হয়েছে। 

তিন মাস ধরে হাইকোর্টে জাপানি দুই শিশুকে নিয়ে চলছে এ মামলা।  আদালতে ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। এরিকো নাকানোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তবে নির্দেশ অনুযায়ী সমঝোতার চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি। এখন আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। 

এর আগে আদালতে শুনানিতে বাবার পক্ষের আইনজীবী ফিদা এম কামাল বলেন, শিশুরা তাদের মায়ের সঙ্গে যেতে চায় না, বাবার সঙ্গে থাকতে চায়। এরই মধ্যে তারা বাংলাদেশর স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখা–পড়া শুরু করেছে। সেখানে ফেরত গেলে জাপানি আইন অনুযায়ী বাবার জন্য ক্ষতির কারণ হবে। 

শিশির মনির বলেন, শিশুদের বিষয়ে জাপানি আদালতের রায় আছে। সবারই উচিত রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো। জাপান গিয়ে শিশুদের লেখাপড়াসহ সবকিছু করা দরকার। এটাই তাদের জন্য কল্যাণকর। এ জন্য শিশুরা মার সঙ্গে বা বাবা-মা দুজনের সঙ্গেও জাপানে যেতে পারে। আর এক দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিলে সেটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের বাবা কোনো মতেই জাপান ফিরে যেতে চান না। মা বাংলাদেশে এসে থাকতে রাজি আছেন। পরে অন্য কোনো দেশে স্থায়ী হতে চান। জাপানে শিশুদের বেড়ে ওঠা। বাচ্চাদের বড় হতে দেন। জাপানি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পর তারা যেখানে খুশি থাকবে। 

ফিদা এম কামাল বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসুন। সমঝোতা করতে চাইলে দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা আছে। জাপানের বাড়ি শিশুদের মা আর নানার নামে। সেখানে বাবার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। তিনি দিতে না পারলে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। 

তিনি আরও বলেন, জাপানের আদালতে অন্য দেশের নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করা হয়। জাপানে এর সমাধান হবে না। বাচ্চাদের তো তাদের বাবা নিয়ে এসেছে। আর তাদের মাকে তো অস্বীকার করা হচ্ছে না। মা চাইলে এখানে মাঝে–মধ্যেও আসতে পারেন। 

এই আইনজীবী দাবি করেন, মা বাচ্চাদের সময় দিতেন না। মা তো অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আর শিশুরাও বাবার সঙ্গেই চলে এসেছে। 

এর আগে দুই মেয়েকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে গত ১৯ আগস্ট রিট করেন জাপানি চিকিৎসক ডা. এরিকো নাকানো। এরপর দুই শিশু এবং তাদের বাবা ইমরান শরীফকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুই শিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ২২ আগস্ট দুই শিশুকে হেফাজতে নেয় সিআইডি। বিষয়টি ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের নজরে আনেন তাদের বাবার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম। পরে আদালত শিশুদের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেন। 

এ সময়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাপানি মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশি বাবা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।  

৩১ আগস্ট হাইকোর্ট আদেশ দেন বাবা-মাসহ রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় থাকবে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা। ৮ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন দুই শিশুকে নিয়ে বেড়ানো বা মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাইরে যেতে পারবেন মা ডা. এরিকো নাকানো। ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশে বলেন, মা এরিকো রাতসহ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন। বাবা ইমরান শরীফ শুধু দিনের বেলা সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তারপর থেকে এভাবেই থাকছেন তাঁরা। 

Advertisement