জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারাদেশে ২০ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এবার কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাস ও যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে মাঠে নামছে দলটির নেতাকর্মীরা। দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পালন করবে পৃথকভাবে।

আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু করে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় কোটি লিফলেট বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানোর টার্গেট আছে। বিএনপির এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে জনসম্পৃক্ত এ কর্মসূচিকে প্রাথমিক ধাপ হিসাবে দেখছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। যা সফলভাবে পালন করতে জেলার নেতাদের কাঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা জানান, লিফলেট বিতরণে এবার জেলা কমিটির সক্রিয় ভূমিকা দেখতে চায় হাইকমান্ড। এজন্য তাদের ঢাকায় না থেকে নিজ জেলার মূল দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে জনগণের হাতে হাতে লিফলেট পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে। কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা না হলে জেলা কমিটির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়াও হতে পারে। একইভাবে তা সফল করতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা করে বিএনপি। এ সভায় লন্ডন থেকে স্কাইপে সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়- কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাস ও যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের সব ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও মহানগরে লিফলেট বিতরণ করা হবে।

সারাদেশে সোমবার থেকে পাঁচ দিন এ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এছাড়া ২৪ নভেম্বর থেকে তিন দিন যুবদল, ২৬ নভেম্বর থেকে তিন দিন কৃষক দল, ২৯ নভেম্বর থেকে তিন দিন স্বেচ্ছাসেবক দল, ৩ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন ছাত্রদল, ৫ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মুক্তিযোদ্ধা দল, ৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন ওলামা দল, ১১ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মৎস্যজীবী দল, ১৭ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন জাসাস, ২০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন তাঁতী দল, ২৩ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মহিলা দল ও ২৬ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন শ্রমিক দল সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করবে। একই ইস্যুতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ কর্মসূচি পালনের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের লোকজনের পকেট ভারি, ব্যবসা বৃদ্ধি, বাড়তি মুনাফার জন্য কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এসবের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। মানুষ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আগে থেকে হিমশিম অবস্থায় ছিল। সাধারণ মানুষের ওপর এ নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, জনগণের দল। তাই সরকারের এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। আরও কর্মসূচি দেয়া হবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সম্প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে স্থায়ী কমিটিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে অন্যতম হলো- বর্তমান সরকারকে সরাতে আন্দোলনই একমাত্র পথ। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের এক দফা দাবিতে সেই আন্দোলন হবে। তবে কী ধরনের কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন সফল হবে, কখন ঘোষণা করা হবে- তা নিয়ে কাজ চলছে।

Advertisement