৭২ ঘণ্টা হলে পার, ধর্ষক কেন পাবে ছাড়?

৭২ ঘণ্টা হলে পার, ধর্ষক কেন পাবে ছাড়?

৭২ ঘণ্টা পার হলে ধর্ষণের অভিযোগ না নিতে বিচারকের সুপারিশের প্রতিবাদে মধ্যরাতে শেকল ভাঙার পদযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নারী অধিকারকর্মী, পেশাজীবী ও শিল্পীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারী-পুরুষেরা।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে শাহবাগ থেকে শেকল ভাঙার পদযাত্রা শুরু হয়। এসময় তারা ১৮৭২ সালে প্রণীত সাক্ষ্যপ্রমাণ আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিলের দাবি জানান। এসময় ‘৭২ ঘণ্টা পার হলে ধর্ষণ ন্যায্য?,’ ‘চরিত্রের প্রশ্নে বিচারহীন, আর কত দিন’, ‘চলন-বলন- পোশাক রাখো, রাষ্ট্র এবার দায় নাও’, ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘পথে-ঘাটে দিনে-রাতে, চলতে চাই নিরাপদে’ এ রকম নানান প্ল্যাকার্ড আর স্লোগানে মুখরিত ছিল শাহবাগ।

এর আগে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া এবং ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা না নেওয়ার বিষয়ে আদালতের এক নির্দেশনার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি আয়োজন করে।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। এ মামলায় ওই বছরের ৮ জুন সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর পরের মাসেই ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ করেন সাফাত ও তার বন্ধু নাঈম।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ঘটনার ৩৮ দিন পর ধর্ষণের অভিযোগ মেডিকেল প্রতিবেদনকে সমর্থন করে না। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অহেতুক আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। এই মামলায় বিচারকাজে ৯৩ কার্যদিবসে প্রচুর কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। এ সময়ে বিচারাধীন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন আদালত।

0 মন্তব্যসমূহ