কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় অংশ নেয়া ৬ ঘাতক চিহ্নিত: পুলিশ

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় অংশ নেয়া ৬ ঘাতক চিহ্নিত: পুলিশ

কুমিল্লায় সহযোগীসহ কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অংশ নেওয়া ৬ ঘাতককে চিহিৃত করার দাবি করেছে জেলা পুলিশ।

রবিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া “হিট স্কোয়াডের” চিহিৃত সদস্যরা হচ্ছেন এজাহারনামীয় আসামি শাহ আলম, সাজেন, সাব্বির, জেল সোহেল, নাজিম এবং ফেনী থেকে আগত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ছয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলের অদূরে সংরাইশ এলাকার রাব্বী ইসলাম প্রকাশ অন্তু (১৯) নামের একজনের বাসায় অবস্থান নিয়ে গরুর মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খায়। আর ঘটনার আগের রাতে তারা বৈঠক করে সাজেনের বাসায়।

পুলিশ ধারণা করছে, কাউন্সিলরকে খুনের সর্বশেষ পরিকল্পনা করা হয় ওই দুই বাসায় বসে। এ মামলায় জিসান মিয়া (২৮) ও অন্তু নামে আরও দুই জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এমন তথ্য বের হয়ে আসে।

রোববার রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার করে। জিসান নগরীর সুজানগর এলাকার নূর আলীর ছেলে। পরে জিসানের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ অন্তুকে গ্রেপ্তার করে। জিসান ওই হত্যা ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি। আর অন্তু সন্দেহভাজন আসামি। তিনি নগরীর সংরাইশ এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে। সোমবার বিকেলে তিনি কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রাতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার গভীর রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে তার নিকটাত্মীয় সন্ধিগ্ধ আসামি অন্তুকে একই রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম জানান, এজাহারবহির্ভুত গ্রেপ্তার অন্তু ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আসামিদের বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন। সর্বশেষ ২ জনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলার ১১ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে পাঁচ জনকে ও অজ্ঞাতনামা থেকে একজনসহ মোট ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেলে সশস্ত্র মুখোশধারীরা কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের পাথুরিয়াপাড়া থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি করে। এতে সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন আরও পাঁ জন। তারা কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Advertisement