তিন জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ৫ জনের

তিন জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল ৫ জনের

দেশের বিভিন্ন জেলায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদীতে তিনজন, কক্সবাজার ও কুমিল্লায় দুইজন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণের আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে।

নরসিংদীতে ভোটের আগেই নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে সালাউদ্দিন মিয়া (৩০), সুবানপুর গ্রামের হক মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (১৮) ও বটতলীকান্দি গ্রামের হাজী সিরাজ মিয়া ছেলে দুলাল মিয়া (২২)। এর মধ্যে নিহত সালাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান প্রার্থী (টেলিফোন প্রতীক) রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থক ও দুলাল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল হকের সমর্থক।

এ ঘটনার পর কক্সবাজারে খুরুশকুল ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন। নিহত আকতারুজ্জামান খুরুশকুল ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী (বর্তমান মেম্বার) শেখ কামালের ছোট ভাই।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর সিপিএসসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোট চলাকালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী বাবুলের সমর্থকরা ব্যালট পেপার আলাদা করে সিল মারার চেষ্টা করেন। এ সময় অপর মেম্বার প্রার্থী শেখ কামালের ভাই আকতারুজ্জামান বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আকতারুজ্জামানকে কোপানোর পর গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মেম্বার প্রার্থী শেখ কামালসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

এদিকে দুপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আমিরাবাদ কেন্দ্রে সংঘর্ষে শাওন মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। বুধবার দুপুরে উপজেলার মানিকার ইউনিয়নের আমীরারাদ সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, দুপুর ১২টায় নির্বাচন চলাকালে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীক ও একই দলের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় বিদ্রোহী প্রাথীর সমর্থক শাওন, জয় মিয়া, শামীম, মকবুল হোসেন, আল আমীনসহ ১৫ জন আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর শাওনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্যাপক সহিংসতা, মারামারি ও হতাহতের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় ৮৩৮টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ইউপি নির্বাচন। এর আগে বুধবার নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, প্রায়ই সংঘর্ষের খবর পাচ্ছি, এটা সত্য। তবে ঘরে ঘরে পাহারা দিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব নয়। প্রার্থীদের নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ ধরনের ঘটনা এভাবে পাহারা দিয়ে ঠেকানো যায় না, বাস্তবতা হলো এটা। এর একমাত্র উপায় হলো নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহনশীলতা। নির্বাচনসুলভ আচরণ করতে হবে।

এরই মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন ৩৩৯ জন নির্বাহী হাকিম এবং ৩৩১ জন বিচারিক হাকিম। মোট ৬৭০ জন ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে লোকবল সংকট নিয়ে সিইসি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ইসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, ভোটের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৮১ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩ হাজার ৩১০ জন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ হাজার ১৬১ জন। সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ হাজার ৭৪৭ জন। এ ধাপে ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোয় প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় যে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের জন্য তফসিল হয়েছিল, নানা কারণে চারটি ইউপির ভোট স্থগিত, একটির ভোট বাতিল হয়েছে এবং পাঁচটি ইউপিতে সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সে কারণে মোট ১০টি ইউপিতে ভোট স্থগিত হওয়ায় আজ ৮৩৮টিতে ভোট হচ্ছে।

Advertisement