নগর গণপরিবহন: ওয়েবিল প্রতারণা বন্ধে বিআরটিএ নীরব

নগর গণপরিবহন: ওয়েবিল প্রতারণা বন্ধে বিআরটিএ নীরব

রাজধানীর গণপরিবহনে ‘ওয়েবিল’ প্রতারণা এখনো বন্ধ হয়নি। ওয়েবিলের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের মতই বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এভাবে প্রতারণার প্রতিবাদ করায় গত দুদিনে বাসচালক ও তার সহকারীরা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে বাস থেকে জোর করে নামিয়ে দিয়েছেন। যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মিরপুর রুটের চালকরা বাস চালানো বন্ধ রাখে। এত কিছুর পরও অবৈধ ওয়েবিল প্রতারণার বিরুদ্ধে বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিকদের ভিজিল্যান্স টিম জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এই প্রতারণা বন্ধে তাদের আগ্রহ কম। তবে পরিবহন মালিকরা দাবি করেন, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। যাত্রীর হিসাব রাখার জন্য ওয়েবিল সিস্টেম রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বিআরটিএর মোবাইল কোর্ট এবং পরিবহন মালিকদের তৎপরতার কারণে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক সার্ভিস অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ওয়েবিলে ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে সাইনবোর্ড রুটের রজনীগন্ধা পরিবহনের বাসে অবৈধ ‘ওয়েবিল’ মাধ্যমে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। ওই বাসের যাত্রী আরশাদ খান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ২৫ টাকা ভাড়া নেয়া হয়। আবার ঝিগাতলা থেকেও গুলিস্তান পর্যন্ত ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। অবৈধ ওয়েবিল দেখিয়ে এভাবে বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। গতকাল সকালে মিরপুর থেকে গুলিস্তানগামী বাসেও ওয়েবিলের নামে ভাড়া আদায় নিয়ে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতে দেখা যায়। বাসযাত্রী মুজিবুর অভিযোগ করেন, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। ওয়েবিলের নামে আগের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মিজানুর রহমান নামের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, সাভার থেকে সাইনবোর্ড রুটের লাব্বায়েক পরিবহনে ওয়েবিল অনুযায়ী ভাড়া কাটা অব্যাহত রয়েছে। এর কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের মতই অনেক বেশি ভাড়া আদায় হচ্ছে।

শিকড় বাসের ওয়েবিল চেকার নাজমুল হোসেন বলেন, আগের ওয়েবিল পদ্ধতি এখন বাদ দেয়া হয়েছে। চুরি ঠেকাতে এবং যাত্রীর হিসাব রাখতেই ওয়েবিল কাটা হচ্ছে। বাসভাড়ার সঙ্গে বর্তমান ওয়েবিলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজা পারভীন বলেন, বিআরটিএর আইন অনুযায়ী, সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস ও ওয়েবিল সিস্টেমের কোনো বৈধতা নেই। এগুলো বাস মালিকদের সৃষ্টি। এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা এখন ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেক বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ওয়েবিল সিস্টেম বন্ধ না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমরা চাই সড়কের অনিয়ম দূর হোক। সব অনিয়ম একবারে দূর করা সম্ভব না। আমরা আস্তে আস্তে অনিয়ম দূর করব। ঢাকায় ১২০টি পরিবহন কোম্পানির বাস চলছে। কোনো কোনো কোম্পানি এখনো ওয়েবিলে বাস চালাচ্ছে। তবে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক সার্ভিস বন্ধ হয়েছে। ওয়েবিলে ভাড়া আদায়ও বন্ধ হবে।

এদিকে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় মিরপুর থেকে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল কমে যায়। পরিবহন চালকরা অঘোষিতভাবে ধর্মঘটের চেষ্টা করে। তবে বিকালে আবার চলাচল শুরু হয়। এ সময় কয়েক ঘণ্টা যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

জানা গেছে, মিরপুরের কালশী এলাকায় সিটিং সার্ভিসের নামে ভাড়া আদায়কালে যাত্রীরা প্রতিবাদ জানায়। দুপুর ২টার দিকে উত্তেজিত যাত্রীরা নূর এ মক্কা পরিবহনের কন্ডাক্টরকে মারধর করে। এরপর চালকদের একটি অংশ বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, মিরপুর-১ নম্বরসহ পুরো মিরপুর এলাকায় অধিকাংশ সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল বন্ধ হয়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাওয়ার জন্য মিরপুর ১২ নম্বর থেকে এই বাসে ওঠেন সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল। ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জের ধরে বাসের চালক ও সহকারী তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর চালকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্যাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকার রাস্তায় সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিসের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো থাকবে না। বাসগুলো নিজের মতো করে যাত্রী পরিবহন করে।

0 মন্তব্যসমূহ