আ.লীগকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না - মির্জা আব্বাস

আ.লীগকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না - মির্জা আব্বাস

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধান সংযোজনের সুযোগ নেই বলে আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।  

মির্জা আব্বাস বলেন, কথা পরিষ্কার-এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। আমরা ইতিপূর্বে কয়েকটা নির্বাচন দেখলাম, আপনারাও দেখেছেন। যে সরকার নির্বাচনের আগের দিন ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে, বাক্স ভর্তি করে ফেলে-এরকম সরকারের অধীনে কিভাবে নির্বাচনে যাই? আমরা তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। এখন ওনারা (সরকার) বলেছেন সুযোগ নাই। আওয়ামী লীগ এখন পদত্যাগ করুক। তারপরে যেভাবে দেশ চলে সেভাবে চলুক। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেন, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রথম উত্থাপন করেছিলো জামায়াতে ইসলাম। অতপর আওয়ামী লীগ এটাকে টেকওভার করে। তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আমাদেরকে আনতে বলে, আমরা নিয়ে এসেছিলাম। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা করি বলেই আমরা সংবিধানে সংযোজন করেছিলাম। এখন ওনারা বলেছেন সুযোগ নাই। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা উচিত-প্রধান নির্বাচন কমিশনার এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আব্বাস বলেন, এখন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছে ওতো একজন ভুয়া লোক। ওর কথা আমরা মূল্য দেই না। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন গঠন হতে পারে না, হবেও না। আমাদের কথা স্পষ্ট, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি ইতিপূর্বে বহুবার দাবি আদায় করেছে। এবারও করবে। এটা সময়ের ব্যাপার। 

মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকার আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অযথা বহু মামলা দিয়ে রেখেছে, গুম-খুন করছে। কয়েকদিন আগে মুফতি কাজী ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদেশের জ্ঞানী-গুনী আলেম-উলামা এদেরকে গ্রেফতার করে এই সরকার কাকে খুশি করতে চাচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। এমন কাউকে তারা খুশি করতে চায় যারা নাকি আমাদেরকে যেখানে সেখানে নিপীড়ন করতে পারলে ভালোবাসে। গত ৬ মাসের মধ্যে কতগুলো আলেমকে হঠাৎ করে উধাও করে দেয়া হলো। কি কারণে? আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের দল সম্বন্ধে আওয়ামী লীগের না ভাবলেও চলবে। তাদের নিজের চরকায় তেল দিতে বলেন, কিভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকবে সেই চিন্তা করতে বলেন। ওদের সরকারে থাকার সুযোগ আর নাই। দেশের মানুষের মুখে মুখে কথা উঠে গেছে যে, আওয়ামী লীগ নাই, বিএনপি আসছে। জাতীয়তাবাদী উলামা দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের আহবায়ক মাওলানা শাহ নেছারুল হক ও সদস্য সচিব মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে ১৮/১৯ জন নেতাকর্মীসহ মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালামকে নিয়ে মির্জা আব্বাস শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যান এবং ফাতেহা পাঠ করে মাজার জিয়ারত করেন। পরে শহীদ নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা।

Advertisement