ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের লোকসান ৪৬ কোটি টাকা

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের লোকসান ৪৬ কোটি টাকা

ফার্স্ট সিকিউরটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বার্ষিক বেতন-ভাতা এক কোটি ৬৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮০। সেই হিসাবে তার মাসিক বেতন-ভাতা ১৪ লাখ ২ হাজার ৮২৩ টাকা। এ বেতন তার ২০২০ সালের করোনা মহামারীর বছর ২০২০ এর। আগের বছর ২০১৯ এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বার্ষিক বেতন-ভাতা ছিল এক কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৯ টাকা। প্রতি মাসে বেতন ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৪ টাকা। করোনার বছরে ব্যাংকটির মাসে বেতন বেড়েছে ৭০ হাজার ৭৩৮ টাকা। ফার্স্ট সিকিউরটি ইসলামী ব্যাংকের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদনেই এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে একই বছরে ব্যাংকটির প্রকৃত লোকসান হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে ২৭৯ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৪ টাকা। একই বছরে ব্যাংকটির ৫২১ কোটি ২৩ লাখ খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৩০৫ কোটি ৯৮ টাকা ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে ৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকাসহ মোট ৩২৫ কোটি ৯৫ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। সে হিসাবে ২৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার মুনাফা থেকে প্রভিশন সংরক্ষণ করলে ব্যাংকটির লোকসান হয় ৪৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

কিন্তু প্রভাবশালী ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে ৩২৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ঘাটতি প্রভিশন দুই বছরের কিস্তিতে পরিশোধ করার সময় নিয়ে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী তিন ধরনের খেলাপি ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড বা প্রাথমিক মানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, ডাউটফুল বা মধ্যম মানের খেলাপি ঋণের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ব্যাড অ্যান্ড লস বা মন্দমানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। প্রভিশন হলো খেলাপি ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের আমানতের রক্ষাকবজ বা সঞ্চিতি।

ব্যাংকের নীট মুনাফা থেকে প্রভিশন করতে হয়। সে হিসাবে ফার্স্ট সিকিউরটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংরক্ষিতব্য ঘাটতি প্রভিশন ও ব্যাংকের অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে সংরক্ষিতব্য প্রভিশন মিলে ব্যাংকটির মোট ৩২৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

এই প্রভিশন ঘাটতি পূরণ না করেই নীট মুনাফা হিসাবে দেখিয়েছে। এর ফলে শেয়ার মার্কেটের স্টক হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দিতে হলো, মুনাফার জন্য সরকারকে ট্যাক্স দিতে হলো। এটা পুরোটাই ব্যাংকের ক্যাস থেকে দিতো হলো।

0 মন্তব্যসমূহ