প্রকৌশলীর মোটরসাইকেল আটক করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

প্রকৌশলীর মোটরসাইকেল আটক করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছিল ট্রাফিক পুলিশ। সেখানে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) এক উপসহকারী প্রকৌশলীর মোটরসাইকেল আটক ও জরিমানা করা হয়। সেই ক্ষোভে ট্রাফিক অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল বুধবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর সদরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে হিংসাত্মক বলে মনে করছে ঈশ্বরদী পুলিশ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বলছেন, বিল বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। 

ঈশ্বরদীর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আজিজুল ইসলাম বলেন, পোস্ট অফিস মোড়ে বুধবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেল আটক করে কাগজপত্র চাওয়া হয়। মোটরসাইকেলের কোন কাগজ এবং আরোহীর হেলমেট না থাকায় আইন অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়। 

আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মামলা দায়েরের পর ৫টা ৩০ মিনিটেই অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আটককৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন ঈশ্বরদী নেসকোর উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিঞা। 

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঈশ্বরদীতে ট্রাফিক পুলিশ কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। 

বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গে ফিরোজ কবির বলেন, বিলের টাকা সরকারি কোষাগার থেকে পরিশোধ হয়। বিদ্যুতের বিলের অর্থ বরাদ্দ আসার পর জরিমানা দিয়েই পরিশোধ হয়ে থাকে। এর আগেও একইভাবে বিল পরিশোধ হয়েছে। জরুরি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ বিভাগের একটি অফিসে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।

নেসকোর ঈশ্বরদীর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল নূর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যাদের বিল বকেয়া আছে, তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল জরিমানার ঘটনার সঙ্গে ট্রাফিক অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কোন সম্পর্ক নেই। 

0 মন্তব্যসমূহ