উন্নয়নের মহাযজ্ঞে বদলে যাচ্ছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার !

উন্নয়নের মহাযজ্ঞে বদলে যাচ্ছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার !

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বদলে যাচ্ছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই কারাগারের জরার্জীন আবাসন ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক বহুতল ভবন। 

নির্মিত হচ্ছে হচ্ছে একশ শয্য বিশিষ্ট কারা হাসপাতাল। সেই সাথে নারী-কিশোর বন্দীদের জন্য নির্মিত হচ্ছে আলাদা বহুতল ভবনসহ প্রয়োজনীয় সকল আবাসন। 

কারা সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ কারাগার সম্প্রসারন ও আধুনিককরনের জন্য রিভাইস ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (আরডিপিপি) প্রকল্পের মাধ্যমে ১১৭কোটি টাকা বরাদ্ধে কারাগারের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু হয়। 

কিন্তু করোনাসহ নানাবিধ কারণে নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত এ উন্নয়ন কাজের মেয়াদকাল বর্ধিত করা হয়েছে। 

এতে নির্মাণ বরাদ্ধ বাড়িয়ে দুই শত কোটি টাকার অধিক বরাদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।        

এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট দু’টি বহুতল বন্দী ভবন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পুরুষ বন্দীদের আধুনিক হাসপাতাল, নারী বন্দীদের জন্য পৃথক বহুতল ভবন, তিন শতাধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কারারক্ষিদের বহুতল ভবন, কিশোর বন্দীদের জন্য ৪ তলা ভিত বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন, মানসিক রোগাক্রান্ত পুরুষ বন্দীদের জন্য হাসপাতাল, ৪টি ৬ তলা বিশিষ্ট বহুতল আবাসিক ভবন, আধুনিক স্বাক্ষাৎ কক্ষ, সীমানা প্রাচীরসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড।    

এর মধ্যে ৪টি আবাসিক ভবনের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে কারাগারের সীমানা প্রাচীরের ৬০ ভাগ, গোডাউনের ৯২ ভাগ, স্বাক্ষাত কক্ষের ৯০ ভাগ, কারারক্ষি ভবনের ৭৫ ভাগ, দু’টি বন্দী ভবনের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। 

বাকি কাজ প্রস্তাবিত বরাদ্ধ অনুমোদন পেলে দ্রুত শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।    

সূত্রটি আরও জানায়, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৯৯৬ জনের। তবে ১৭৯০ সালে নির্মিত এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছে ১৯৯৪ জন। যা ধারণ ক্ষমতার দুই গুণের বেশি। ফলে প্রবল আবাসন সংকটের মধ্যেই চলছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার।  

তবে কারাগারের অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান কর্মযজ্ঞে কারাবন্দিদের এই কষ্ট লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের ডিআইজি প্রিজন্স মো: জাহাঙ্গীর কবীর। 

তিনি জানান, বর্তমানে কারাগারে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে কারাগারের ধারণ ক্ষমতা হবে দুই হাজার। তখন বন্দীদের কষ্ট আর থাকবে না। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বস্থির সাথে তারা বসবাস করতে পারবে। 

0 মন্তব্যসমূহ