কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রেখেছিলেন ইকবাল

কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রেখেছিলেন ইকবাল

কুমিল্লার নানুয়া দীঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। তিনি আরও বলেন, আমরা এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। শনাক্ত ইকবাল হোসেন কোথা থেকে ওই কোরআন শরিফটি সংগ্রহ করেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাও বের করা হয়েছে।

পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শনাক্ত ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। তার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হবে। তার বাবার নাম নুর আহমেদ আলম। বাড়ি কুমিল্লার সুজানগরে।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, শনাক্ত ইকবাল হোসেন কোথা থেকে ওই কোরআন শরীফটি সংগ্রহ করেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাও বের করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যেখান থেকে ধর্মীয় গ্রন্থ সংগ্রহ করে মন্দিরে নেওয়া হয়, সেই তথ্যও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এখন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ওই ব্যক্তিকে খুঁজছে দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ওই ব্যক্তিকে ধরা গেলে তাকে কারা ব্যবহার করছে, তাদের নাম-পরিচয়ও জানা যাবে।

বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে দেখা যাচ্ছে এক যুবক মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রাস্তার দিকে আসে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম তার হাতে কোরআন শরিফ নেই। হনুমান ঠাকুরের গদা হাতে নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন তিনি।

গত ১৩ অক্টোবর ঘটনার রাতের দুটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৩ অক্টোবর রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে মসজিদ থেকে ওই যুবক কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে বের হয়ে আসেন। এরপর রাত ২টা ১১ মিনিটে তিনি মসজিদ থেকে মূল সড়কে উঠে মন্দিরের দিকে হেঁটে যান।

অপর ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১২ মিনিটে যুবকটির হাতে কোরআন শরিফ নেই। তিনি এসময় গদা কাঁধে নিয়ে মন্দিরের পাশে পুকুরপাড়ের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এসময় তিনি চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলেন কেউ তাকে খেয়াল করছে কিনা।

এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, কুমিল্লার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে, স্থান পরিবর্তন করছে। আমরা তাকে ধরব। কেন এই কাজ করেছে তার জবাব দিতে হবে। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহামুদ পাশা জানান, এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। কারা জড়িত, কেন ঘটানো হয়েছে সব বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে উগ্র সাম্প্রদায়িক একটি চক্র অনেকদিন ধরে তৎপর। তারা প্রযুক্তির সহায়তায় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তারাই শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপে হামলা করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যদিয়ে তা ছড়িয়েছে দেশের কয়েকটি জেলায়। জড়িতরা যেমন সরকারবিরোধী মতাদর্শের তেমনিভাবে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করে আসছে। তাদের বক্তব্য সমর্থন করে সেগুলো ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে আসছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িতরা। এমন অনেক সাইড ও লিংক বন্ধ করা হলেও বিকল্প পন্থায় প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে তারা সরব রয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা জানিয়েছে, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এ নিয়ে কাজ করছে। তাদের তদন্তে সবকিছু খোলাসা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্তকাজ তদারকি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখে দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা মহানগরীর নানুয়া দিঘিরপাড় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে গত ১৩ অক্টোবর। এই আট মামলায় এজাহারনামীয় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের জামায়াত সমর্থিত তিন কাউন্সিলরসহ অজ্ঞাত অন্তত ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ বাদী হয়েছেন ছয় মামলায়। এরমধ্যে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলায় ৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন তিনজনসহ এ পর্যন্ত আট মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement